
বিশেষ প্রতিবেদন::বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চরম অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে রূপকথার মতো অঢেল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মহসিন-উল হাসানের বিরুদ্ধে। সরকারি চাকরির সীমিত আয় দিয়ে স্বল্প সময়ে তিনি কীভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হলেন, তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কাজ না করেই বিল উত্তোলন ও প্রকল্পের টাকা গায়েব:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানারীপাড়ায় দায়িত্বে থাকাকালীন গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক হরিলুট চালিয়েছেন এই কর্মকর্তা। একাধিক ক্ষেত্রে সরেজমিনে কোনো উন্নয়ন কাজ না করেই ভুয়া কাগজপত্র ও মাস্টাররোল তৈরি করে পুরো টাকা উত্তোলন করে পকেটে পুরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে একদিকে যেমন সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে এলাকার সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
বরিশাল নগরীতে কোটি টাকার রাজপ্রাসাদ:
অভিযোগের ভয়াবহতা দৃশ্যমান হয় বরিশাল নগরীতে তার অর্জিত অবৈধ সম্পদের দিকে তাকালে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বটতলায় তিনি কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি বিলাসবহুল বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এই রাজপ্রাসাদসম সম্পত্তির কোনো সঙ্গতি নেই। স্থানীয়দের মতে, পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্জিত অবৈধ টাকাই এই সম্পদের মূল উৎস।
অভিযুক্তের নিরবতা ও কর্তৃপক্ষের আশ্বাস:
এসব গুরুতর অভিযোগ এবং অবৈধ সম্পদের উৎসের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মহসিন-উল হাসানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলেই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুদকের হস্তক্ষেপ দাবি:
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ অনতিবিলম্বে বানারীপাড়ার সাবেক এই পিআইওর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।