1. admin@jagratakhobor.com : admin-ferdous :
মমতা যুগের অবসান ১৯৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি, তৃণমূল ৯৪টিতে, পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া হাওয়া, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী - জাগ্রত খবর - jagrata Khobor
৩১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| শুক্রবার| সকাল ৮:১০|
শিরোনামঃ
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল ঘরে কর্মক্ষেত্রে বাড়ছে নারীর প্রতি সহিংসতা, সমাজ নীরব কেন? বাবুগঞ্জে হাঁস নিয়ে বিরোধের জেরে নাতির লাথিতে আহত নানির মৃত্যু মাটির ওপরে দাঁড়িয়ে একমাত্র ক্ষমতা দেখাতে পারে জনগণ : তথ্যমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তির আশাবাদ ট্রাম্পের, ব্যর্থ হলে ফের হামলার হুঁশিয়ারি বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন, একদিনেই কমলো ১০ শতাংশের বেশি মোটরসাইকেল চোরচক্রের আস্তানা পুরাতন গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের দোকান ত্যাগী ও সাহসী ছাত্রদল নেতা ইসমাইল মোল্লাকে দমাতে ‘মিথ্যা মামলা’ বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী হুমায়ুন কবিরকে নিয়ে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা বরখাস্ত হলেন জেলে ট্রলার থেকে চাঁদা নেওয়া পাথরঘাটার দুই নৌ-পুলিশ

মমতা যুগের অবসান ১৯৩ আসনে এগিয়ে বিজেপি, তৃণমূল ৯৪টিতে, পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া হাওয়া, মুখ্যমন্ত্রীর দৌড়ে শুভেন্দু অধিকারী

প্রতিনিধির নাম
  • প্রকাশিত সময় মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬
  • ১৫৭ বার পড়েছেন
জাগ্রত খবর ডেস্ক::১৫ বছর পর পশ্চিমবঙ্গের শাসন ক্ষমতায় ঘটছে ফের পালাবদল। দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ৩৪ বছর আগে বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ‘মা-মাটি-মানুষের’ সরকার। আর এবার সেই তৃণমূলকে কার্যত ধূলিসাৎ করে ক্ষমতা দখলের পথে মোদি-অমিত শাহের দল বিজেপি।রাজ্যটির ২৯৪টি আসনের মধ্যে এদিন ২৯৩টি আসনে (অনিয়মের অভিযোগে ফলতা আসনে ভোট গ্রহণ আগামী ২১ মে) গণনা হয়। সরকার গড়তে দরকার ১৪৭টি আসন। এর মধ্যে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত ২০৪ আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, ৮১ আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ‘ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) একটি আসনে, ‘আমজনতা উন্নয়ন পার্টি’ (এজেইউপি) একটি আসনে ও কংগ্রেস দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে।কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে গতকাল এ ২৯৩ আসনের গণনা শুরু হয়। এর জন্য গোটা রাজ্যে ৭৭টি গণনাকেন্দ্র খোলা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গের মোট ২৯৪ আসনে ভোট হয়েছে দুই দফায়। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২ আসনে এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনে ভোট নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফার ভোট শেষেই বিভিন্ন বুথফেরত সংস্থার জরিপেও বিজেপির সরকারে আসার ইঙ্গিত মিলেছিল। ফের একবার সেই বুথফেরত সমীক্ষার সঙ্গে মিলে গেছে আসল ফলাফল।এদিন ভোটের ফলাফল সামনে আসতেই কলকাতা থেকে জেলা সর্বত্র বিজেপি কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠে গেরুয়া শিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। পাশাপাশি সিঙ্গুরে ঝালমুড়ি বানিয়ে, ভাগ করে খেলেন বিজেপি কর্মীরা। দেড় দশক আগে হুগলির সিঙ্গুর থেকে উত্থান হয়েছিল তৃণমূলের। সেই সিঙ্গুরেই তৃণমূল দুর্গের পতন ঘটিয়ে উত্থান হল বিজেপির। রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্নাকে পেছনে ফেলে বিজেপির প্রার্থী অরূপ কুমার দাস এগোতেই আনন্দে ঝালমুড়ি বানিয়ে, ভাগ করে খেলেন বিজেপি কর্মীরা। আবার বুলডোজার নিয়ে অভিনবভাবে জয়ের আনন্দে মাতলেন মালদহের বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে একাধিক ডিজে বাজনা এবং চলছে আবির খেলা। এমনকি  দলটির রাজ্যসভার সাংসদ হর্ষবর্ধন শ্রিংলাকেও উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। দলের কর্মী-সমর্থকরা তাকে মিষ্টিমুখ করান। এরপর বাজনার তালে তালে নৃত্য করতে দেখা যায় সাবেক এই কূটনীতিককে। এদিকে বিজেপির বড় জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে নতমস্তকে প্রণাম জানিয়ে তাদের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এক্স হ্যান্ডেলে মোদি লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুল ফুটেছে! ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে এবং বিজেপির সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে। আমি পশ্চিমবঙ্গের প্রত্যেক ব্যক্তিকে নতমস্তকে প্রণাম জানাই।’ তিনি আরও লেখেন, ‘জনগণ বিজেপিকে এক অভূতপূর্ব রায় দিয়েছেন এবং আমি তাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, আমাদের দল পশ্চিমবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন ও আকাক্সক্ষা পূরণের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করবে। আমরা এমন একটি সরকার দেব যা সমাজের সব স্তরের মানুষকে সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।এবারে নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত আসন ভবানীপুর। এই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী মমতা ব্যানার্জি, তার প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ১৭ রাউন্ড গণনার শেষে ২,৯৫৬ ভোট এগিয়ে আছেন শুভেন্দু।এরই মধ্যে নন্দীগ্রাম আসন থেকে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। তিনি হারিয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী পবিত্র করকে। ২০২৬ সালের নির্বাচনে এ দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শুভেন্দু।এদিকে বিজেপির এগিয়ে থাকার খবর আসতেই বেশ কিছু জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ব্যারাকপুর রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের গণনা কেন্দ্রে নোয়াপাড়া বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ ওঠে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে তৃণাঙ্কুরকে উদ্ধার করে জওয়ানরা। আবার এই গণনা কেন্দ্রেই বীজপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এর পাশাপাশি এই গণনা কেন্দ্রে ব্যারাকপুরের তৃণমূল প্রার্থী ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে চোর চোর স্লোগান দেখা যায়। বর্ধমানের এমবিসি গণনা কেন্দ্রের বাইরেও উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি এগিয়ে যেতেই অতি উৎসাহীদের তান্ডব ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। বর্ধমান উত্তরের তৃণমূল প্রার্থীর এজেন্টকে মারতে মারতে গণনা কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে। কোথাও আবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই কাঁথি পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে দেয় বিজেপির কর্মী ও সর্মথকরা। পরে তৃণমূলের প্রতীকে গেরুয়া রং লাগিয়ে সেই কার্যালয়ের দখল নেয় তারা। পশ্চিম বর্ধমানের জামুরিয়া এবং বারাবনিতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। অভিযোগ ওঠে বিজেপির বিরুদ্ধে।অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিজেপির জয়ের খবর আসার পরে এদিন দুপুরে আচমকাই রাজ্যের সচিবালয় নবান্নের কাছে পৌঁছে যান বিজেপির মহিলা কর্মীরা। মুখে আবির মাখা অবস্থায়, হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে নবান্নের সামনে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। কিছু সময় সেখানে থাকার পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। যদিও তার আগে নবান্নের সামনে মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। সূত্র খবর, নবান্ন থেকে কোনোরকম গুরুত্বপূর্ণ নথি যাতে বাইরে বেরিয়ে না যায় সেই কারণে সেখানে উপস্থিত কর্মীদের প্রবেশ ও বাইরের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। এদিকে নির্বাচনে তৃণমূলের এই খারাপ ফলাফল নিয়ে দলের সিনিয়র সংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন, ‘২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিপিআইএম প্রার্থী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হেরে গিয়েছিলেন। রাজনীতিতে এটা হয়েই থাকে। এসআইআর ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়নি। কারণ অনেক ভোট কমে গেছে।’ বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের প্রার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়ে সৌগত বলেন, ‘আমাদের লোকেরা প্রতিরোধ করবে। চার্চিলের উক্তি উদ্ধৃতি করে তিনি বলেন, ‘জয়ের সময় উদার হও, হেরে গেলে রুখে দাঁড়াও। আমরাও সেটাই করব। তাছাড়া এতে এত বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকায় মুখ খুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ শতাব্দী রায়। তার অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলকর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর চলছে, কিন্তু পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ফোন করা হলেও কেউ ফোন ধরছেন না। ফলে সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।যদিও, সিউড়ি বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জয়ের পর বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তার কথায়, বাংলার বাঙালি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে বিদায় জানিয়েছে।’এদিকে ভোট গণনা চলাকালীন ভবানীপুর আসনের গণনা কেন্দ্র সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে তৃণমূল প্রার্থী মমতা ব্যানার্জির প্রবেশ করা নিয়ে উত্তেজনা ছড়ায়। মমতার আসার খবর পেয়ে গণনা কেন্দ্রে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারীও। একসময় প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় ভবানীপুর আসনে। তাদের উভয়ের কাছ থেকেই মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। শেষ পর্যন্ত ভবানীপুর আসনের গণনা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, যতক্ষণ না ওই দুই প্রার্থী গণনা কেন্দ্র থেকে বের হবেন, ততক্ষণ নতুন করে গণনার কাজ শুরু হবে না। পরে মমতা নিজেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। পরে ফের শুরু হয় গণনা।আবার হেস্টিংস-এর গণনা কেন্দ্রে ঢোকার পরেই সেখানকার বিজেপিসহ অন্য প্রার্থীরা ও তাদের বাট কাউন্টিং এজেন্টরা কমিশনে অভিযোগ জানায়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিষেককে সেই গণনা কেন্দ্র থেকে বাইরে বেরোনোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একটা সময় তাকে দেখে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা চোর স্লোগান দিতে থাকে। পরে দলের এই ফলাফল নিয়ে বিকালে মুখ খোলেন মমতার ভাতিজা ও দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। অভিষেক বলেন, ‘মানুষ যে রায় দেবে, সভ্য সমাজের উচিত তা মাথা পেতে নেওয়া। এখনো গণনার অনেক সময় বাকি রয়েছে। আমি দলের কাউন্টিং এজেন্টদের বলব তারা যেন গণনা কেন্দ্র ছেড়ে না বেরে তারা যেন ধৈর্য ধরে।পশ্চিমবঙ্গে এবার প্রায় ২ হাজার ৯০০-এর বেশি প্রার্থীর ভাগ্য পরীক্ষা হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও বিজেপির জয়ী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), সাবেক কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ), স্বপন দাশগুপ্ত (রাসবিহারী), অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলী (সোনারপুর দক্ষিণ), অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ (শিবপুর), অভিনেতা হিরন্ময় চ্যাটার্জি (শ্যামপুর), আরজিকর হাসপাতালের নির্যাতিতা ও নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ প্রমুখ। অন্যদিকে তৃণমূলের যেসব প্রার্থী এগিয়ে আছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় (বালিগঞ্জ), মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা বন্দর), মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (টালিগঞ্জ), অভিনেত্রী নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় (চৌরঙ্গী) প্রমুখ।অন্য দলগুলোর মধ্যে ভাঙ্গর আসনে জয়ী হয়েছেন ‘ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট’ (আইএসএফ) প্রার্থী পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর) প্রমুখ।
তবে গেরুয়া ঝড়ে এবার তৃণমূলের একাধিক মন্ত্রী, বিধায়ক এবং তারকা প্রার্থীরা ধরাশায়ী হয়েছেন। যার মধ্যে অন্যতম মন্ত্রী শশী পাঁজা (শ্যামপুকুর), মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (উত্তর দমদম), মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী (মন্তেশ্বর), মন্ত্রী সুজিত বসু (বিধান নগর), অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি (বরানগর), পরিচালক রাজ চক্রবর্তী (ব্যারাকপুর), মন্ত্রী রথীন ঘোষ (মধ্যমগ্রাম), উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ (দিনহাটা), সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব (শিলিগুড়ি), অভিনেত্রী লাভলী বন্দ্যোপাধ্যায় (সোনারপুর দক্ষিণ), এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী অ্যাটলিট স্বপ্না বর্মণ (রাজগঞ্জ)।অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরাজিত হেভিওয়েট প্রার্থীদের তালিকা রয়েছেন কংগ্রেসের অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর),  কংগ্রেসের মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) প্রমুখ।পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম ভূমিধস সাফল্য পেল বিজেপি। বিজেপির এই অভূতপূর্ব সাফল্যেও পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি কারণ। যার মধ্যে অন্যতম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহসহ রাজ্যস্তরে বিজেপির প্রভাবশালী নেতৃত্ব প্রদান, আক্রমণাত্মক প্রচার। অন্যদিকে তৃণমূলের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব থাকলেও বিরোধী হিসেবে বিজেপি অনেক বেশি সংগঠিত ছিল। এবারের নির্বাচনে মমতা সরকারের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ, পাহাড়সম দুর্নীতি, নারী নিরাপত্তা, বেকারত্ব তোষণের রাজনীতিসহ একাধিক ইস্যুকে প্রচারণার হাতিয়ার করে শাসক দলকে কার্যত কোণ ঠাসা করে দিয়েছিল বিজেপি। মোদি অমিত শাহিদের মুখে বারবার উঠে এসেছিল অনুপ্রবেশকারীদের ভোটে মমতার জেতার প্রসঙ্গটিও। যা রাজ্যের মানুষকে নতুন করে ভাবতে শিখিয়েছে।দীর্ঘদিন সরকারে থাকার কারণে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান বিরোধী হওয়াও কাজ করেছে। শিক্ষক নিয়োগ, কয়লা, গরু পাচারসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তৃণমূলের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। বিরোধীরা এই ইস্যুগুলোকে সামনে এনে জনমনে ক্ষোভ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি, আরজি করসহ একাধিক বড় অপরাধে প্রমাণ লোপাটসহ তৃণমূলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। জনমানসে সে ক্ষোভও ছিল। তার প্রভাবই ভোটবাক্সে পড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে ভোটের মেরুকরণ বিজেপির পক্ষে গেছে বলে। মনে করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে একত্রিত করার কৌশল কার্যকর হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এ মেরুকরণের পাল্টা বয়ান শক্তভাবে দাঁড় করাতে পারেনি। সর্বোপরি ছিল বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন তত্ত্ব। কেন্দ্র ও রাজ্যে একই দলের সরকার থাকলে উন্নয়ন দ্রুত হবে, এই ‘ডাবল ইঞ্জিন’ তত্ত্ব বিজেপি জোরালোভাবে প্রচার করেছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছনোর কথাও ভোটে প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি যুবসাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো তৃণমূল সরকারের প্রকল্পগুলোতে দেওয়া অর্থের পরিমাণ এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েও বাজিমাত করেছে বিজেপি।পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি আসামে ১২৬টি আসনে, কেরালায় ১৪০ আসনে, তামিলনাড়ুতে ২৩৪ আসনে এবং পুদুচেরিতে ৩০ আসনের ফলাফলও ঘোষিত হয়েছে।গত ১৫ মার্চ পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ৫ রাজ্যের বিধানসভার নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এরপরই একে একে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে ডান-বাম প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল। কার্যত সেই থেকেই গত দেড় মাস ধরে মিটিং, মিছিল, র?্যালি, রোড-শোসহ প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত ছিল রাজনৈতিক দলগুলো। রাজ্যের স্থানীয় নেতৃত্ব তো ছিলেনই, পাশাপাশি দিল্লিসহ অন্য রাজ্য থেকেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা পশ্চিমবঙ্গের প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।পশ্চিমবঙ্গের সরকার গঠনের এ নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় গণমাধ্যমের যেমন কৌতূহল ছিল, তেমনি ভারতের অন্য রাজ্যের পাশাপাশি বিদেশি গণমাধ্যমের কর্মীদের মধ্যেও প্রবল আগ্রহ ছিল। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের পাশাপাশি রাত-দিন এক করে তারাও ছিলেন নির্বাচনি ময়দানে।তবে পশ্চিমবঙ্গের গণনাপর্ব মিটলেও ভোটপর্ব এখনই মিটছে না। একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় রাজ্যটির ফলতা বিধানসভায় নতুন করে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আগামী ২১ মে ফলতা বিধানসভা আসনের ২৮৫টি বুথেই ফের ভোট নেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। ২৪ মে ওই আসনটির ফল প্রকাশ।

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর
রমজান সময়সূচি

আজ ৩০ রমজান

সেহরির শেষ: --

ইফতার শুরু: --

.

Developed by Barishal Host

© All rights reserved © 2025 Jagratakhobor.com