
নিজস্ব প্রতিবেদক::বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদক উদ্ধারের নামে থানা পুলিশের নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে নাদিয়া বেগম (৩৮) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যুর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের স্বজনদের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা খেয়ে পুলিশ কোনো মামলা ছাড়াই গভীর রাতে বাড়ি ঘেরাও করে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং থানায় নিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।১নং প্রশ্ন হইলোঃ রাতে কোনো নারী অপরাধীকে গ্রেফতার বা অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট অভিযান পরিচালনাকারী দলে কতজন নারী সদস্য ছিলো ?নিহত নাদিয়া বেগম উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার এনামুল হক মন্টু গাজীর স্ত্রী।অভিযোগ অভিযানের নামে গভীর রাতে তান্ডব ও অর্থ লুটঃপারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এবং স্থানীয় বহু ঘটনার বিতর্কিত সেলিম রেজা এবং সুমন মীরার সাথে মন্টু গাজীর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। অভিযোগ উঠেছে, মন্টু গাজীর বসতবাড়ি খালি করে অবৈধ দখলের উদ্দেশ্যে সেলিম রেজা ও সুমন মীরা ৩ লাখ টাকার চুক্তিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে।মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন ও সেকেন্ড অফিসার এসআই তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কোনো নারী সদস্য ছাড়াই কৃষ্ণকাঠী গ্রামে মন্টু গাজীর বাড়ি ঘেরাও করে। বাড়িতে মন্টু গাজীকে না পেয়ে পুলিশ দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। দরজা খুলতে সামান্য দেরি হলে পুলিশ দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালায়। এসময় ঘরে কোনো মাদকদ্রব্য বা অবৈধ মালামাল পাওয়া না গেলেও ঘরে থাকা আনুমানিক ১ লক্ষ ১৯,৪০০ হাজার টাকা এবং ৩টি মোবাইল ফোন পুলিশ ছিনিয়ে নেয় বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে পুলিশ মাত্র ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেয়।