
মোঃ ফেরদাউস::বিয়ে বান্দার প্রতি মহান আল্লাহর অগণন অনুগ্রহের একটি। ইসলামে প্রয়োজনে দ্বিতীয় বিয়ে করাকে জায়েজ করেছে এটা সত্য কথা। কিন্তু একাধিক বিয়েকে কখনও উৎসাহিত করেনি।আল্লাহ তাআলা কুরআনের সুরা: রূম,২১ নম্বর আয়াতে বলছেন,তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গীণীকে, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ করতে পার ও তোমাদের (স্বামী-স্ত্রীর) পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে বহু নিদর্শন রয়েছে, সেইসব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে। (সুরা: রূম, আয়াত ২১),একাধিক বিয়ের বিষয়ে কুরআনের সুরা: নিসার ৩ নম্বর আয়াতে, তোমরা বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে যাকে তোমার ভালো লাগে দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশঙ্কা করো যে সুবিচার করতে পারবে না, তাহলে একজনকে (বিয়ে করো)।হাদীস শরীফে একাধিক বিয়ের অনুমতি থাকলেও, এটি শর্তসাপেক্ষ এবং সুবিচার করার সক্ষমতা আবশ্যক, অন্যথায় কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে। যেমন দুই বা ততোধিক স্ত্রী থাকলে একজনের প্রতি অন্যজনের চেয়ে বেশি ঝুঁকে পড়লে কিয়ামতের দিন এক পাশ হেলে থাকার মতো অবস্থা হবে, এবং এজন্য একজন সামর্থ্যবান পুরুষ সর্বোচ্চ চারজন পর্যন্ত বিয়ে করতে পারেন, তবে ন্যায়বিচার করতে না পারলে কেবল একটি বিয়েই উত্তম, যা কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশনা।বুখারি, ৫১৮৬ হাদিস আছে,হজরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, আমার নিকট হতে নারীদের সঙ্গে সদাচরণের উপদেশ গ্রহণ কর। তাদেরকে পাঁজরের হাড় দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। হাড়ের মধ্যে সর্বাধিক বাঁকা হাড় হলো উপরেরটি। (সেই হাড় হতেই নারীদের সৃষ্টি করা হয়েছে)। অতএব তুমি যদি তা সোজা করতে চাও তবে ভেঙে ফেলবে। আর ওইভাবে ফেলে রাখলে সর্বদা উহা বাঁকাই থাকবে; সুতরাং তোমরা নারীদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।ইসলাম দ্বিতীয় বিয়ে বা বহু বিবাহে উৎসাহিত করে তখনই যখন সব দিক দিয়ে শান্তি বজায় রেখে, প্রথম স্ত্রীর খুশি মতে বিয়ে করতে পারবে। কোরআনের ভাষায় অবশ্যই সমতা বজায় রাখতে হবে। দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রথমজনকে অবহেলিত অবস্থায় রেখে যাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। আর ভরণপোষণ দিতে না পারলে তো দ্বিতীয় বিয়েতে যেতেই পারবে না।মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৪২০৪, তিরমিজি, হাদিস ২৬১২ রয়েছে-হজরত আয়শা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন, মুমিনদের মাঝে সেই ব্যক্তি অধিকতর পূর্ণ মুমিন, যে ব্যক্তি সদাচারী এবং নিজ পরিবারের জন্য কোমল এবং অনুগ্রহশীল। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৪২০৪, তিরমিজি, হাদিস ২৬১২) হাদিসগুলো পর্যলোচনা করলে বুঝা যায়, দ্বিতীয় বিয়ের সময় প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নেয়াটাই জরুরি।যেহেতু আমরা একটি সাংবিধানিক দেশে বসবাস করি। দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াও আমাদের কর্তব্য। দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে দেশের আইনে কী আছে? এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ঝিনাইদহ জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুফতি ইলিয়াছ আলমগীর সময় সংবাদকে বলেন, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে ও তার ভরণপোষণ না দেয়া একটি ফৌজদারি অপরাধ। এ ক্ষেত্রে আমরা মুসলিম পারিবারিক আইন ফলো করে থাকি।মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারামতে, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সালিশি পরিষদের কাছে অনুমতি না নিলে বিয়ে নিবন্ধন হবে না। আর তাই প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে অবৈধ বলে গণ্য হবে।এ অবস্থায় প্রতিকার পেতে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দণ্ডবিধি আইন-১৮৬০-এর ৪৯৪-এর বিধানমতে মামলা করতে পারবেন। এ সময় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের কাবিননামা আদালতে দেখাতে হবে। অনুমতিহীন বিয়ের বিষয়ে স্বামীর অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে।এ ছাড়া সন্তান থাকলে তার ভরণপোষণ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালতে ভরণপোষণ চেয়ে মামলা করতে পারবে। সবগুলো আইনই মূলত পারিবারিক শান্তি রক্ষার জন্য করা হয়েছে। তবে কোরআনের বিধানের প্রতি অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
*মোঃ ফেরদাউস, সভাপতি- বরিশাল পূর্বাঞ্চলীয় প্রেস ক্লাব*