
রাসেল খলিফা:: সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নৈমিত্র গ্রামে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি ও বালু কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সেলিম হাওলাদার, পান্না খান ও জলিল হাওলাদারের নেতৃত্বে একটি চক্র জোরপূর্বক এ ড্রেজার পরিচালনা করছে। এতে স্থানীয় বসতবাড়ি, গ্রামীণ রাস্তাঘাট ও আশপাশের কৃষিজমি মারাত্মক ভাঙনের মুখে পড়েছে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ২৮ অক্টোবর বুধবার এলাকাববাসীর পক্ষে মো. সোহাগ হাওলাদার বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত নওসিনের নিকট একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, মতলেব ঘোষের বাড়ির সামনের কৃষিজমি থেকে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বালু ও মাটি উত্তোলন করে আসছেন। এর ফলে পার্শ্ববর্তী কৃষিজমি ধসে পড়ছে, চলাচলের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষকদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। বারবার নিষেধ করা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা কোনো কর্ণপাত না করে মাটি কাট অব্যাহত রেখেছেন।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় ভুক্তভোগী ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, সেলিম হাওলাদারসহ অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটছেন। এতে আমাদের পুকুর শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং বাড়ির যাতায়াতের রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের ধানি জমিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত সেলিম হাওলাদার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, আমার জমিতে আমি মাটি কাটছি, রাস্তার পাশে কোনো ক্ষতি করা হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর দাবি, বাড়ির রাস্তার পাশে এভাবে গভীরভাবে মাটি কাটলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এলাকাবাসী অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটা বন্ধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুসরাত নওশীন জানান, গতকাল আমার বরাবর একটি আবেদন আসছে, আমি আজ ষড়জমিনে আমাদের তহশিলদার নাজমুল আলমকে পাঠিয়েছি। ওইখানে ড্রেজার দিয়ে কাজ করার উপক্রম দেখা গেছে, তবে কাজটা বন্ধ ছিল ওই সময়। আমি নির্দেশ দিয়েছি নজরদারি রাখতে। যদি পুনরায় ড্রেজার দিয়ে কাজ শুরু করে, তাহলে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।