কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ছবি সাইনবোর্ডে ব্যবহার করে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে সানভিউ প্রপার্টিজ এর মালিক মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ তুলে ১৪ সেপ্টেম্বর (সোমবার) বেলা ১১ টায় কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জমির মালিক ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আকন।সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহাঙ্গীর আকন বলেন, সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেন একজন ভূমি দস্যু, প্রতারক ও মামলাবাজ। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয় দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করে নানা অপকর্ম করেছেন। ৫ আগস্টের পর পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে ছবি টাঙ্গিয়ে ফের প্রতারনায় মেতে উঠেছে। বিভিন্ন গ্রাহক এবং শেয়ার হোল্ডারদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করে এমন দাবি করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, জেএল ৩৪নং লতাচাপলী মৌজার এসএ ৬৬২নং খতিয়ানের ৫৩৭২, ৫০৭০, ৫৩৭৬, ৫০৭২/৫৪৮৭৫ দাগসমূহের অংশ থেকে বিগত -১-৯-১৯৯৭ ইং তারিখের ২৬৫৯/৯৭নং সাব কবলা দলিল ভুলে ০.৭৭ একর জমির মালিক (১) সৈয়দ মোসারেফ,(২) জি.এম ফারুক, (৩) মোঃ ইউনুছ মিয়া, (৪) মোসাম্মাৎ জাহানারা ইসলাম। যা বর্তমান বিএস জরিপে জেএল ৫৭নং কুয়াকাটা মৌজার বিএস ৭৭৭নং খতিয়ানের ৩৩৮৬নং দাসে ১০০ জলে ০.৫০ একর জমি রেকর্ড হয়। উল্লেখিত জমির মালিকগণ বিগত ২৬-০৭-২০২৬ তারিখ উক্ত জমি দেখাশুনা, রক্ষণ্য বেক্ষণ এবং মামলা মোকদ্দমা পরিচালনার জন্য আমার উপর ক্ষমতা হস্তান্তর করেছেন। পরবর্তীতে ২০-০৮-২০২৬ তারিখ বিএস রেকর্ডীয় মালিক মরহুম জি.এম ফারুক এর ওয়ারিশ মোঃ রেজাউল করিম ও মোঃ রেদওয়ানুল করিম ০.৬৯৯৫ একর জমি আমার ভাই মোঃ রিপন এর নিকট বায়না দলিল মূলে হস্তান্তর করেন।এদিকে উক্ত জমি নিয়ে মোঃ মোসাররফ হোসেন আমাকে অযথা হয়রানি করছেন। আমার বিরুছে বিভিন্ন আদালতে ৩৫৭/২৪, ৩৫৮/২৪, ৪৭৯/২৪, ১৪৯/২৪নং চারটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়াও ঢাকায় দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মূলত আমার আর্থিক ক্ষতি সাধন করার জন্য মামলাগুলো দায়ের করছেন।তিনি বলেন, উক্ত জমি নিয়ে ৮৬/৫৯নং দেওয়ানী মামলায় মোঃ শাহজাহান একতরফা সোলে ডিক্রিমূলে রায় পেয়ে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেন এর নিকট হস্তান্তর করেন। পরবর্তীতে আমার দাতাগণের মূল মালিক মুন্সী আঃ গফুর আমান উল্লাহ ভূইয়া সোলে ডিক্রির বিরুদ্ধে ৫৬/৬৭নং মামলা দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত শাহজাহান এর ডিক্রি রোধের রায় প্রদান করেন। আদালতের রায়ে সানভিউ প্রপার্টিজ লিঃ এর এমডি মামলাবাজ মোসাররফ হোসেন এর মূল মালিক শাহজাহান এর মালিকানা বাতিল হলে পুণরায় পটুয়াখালী জেলা জজ ১ম আদালতে ৭৩/১৩নং মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত পরিবর্তন হয়ে ২৬৪/২২নং মামলায় রুপান্তরিত হয়ে আদালতে চলমান আছে।ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আকন দাবী করেন, ২০১৪ সালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের জমি অবৈধভাবে ভোগ দখল করছেন। আমি ও আমার মালিকগণ জমি ভোগ দখলে গেলে বিবাদী প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে এবং একেরপর এক মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি করছেন। আদালত প্রাঙ্গণে জিম্মি করে ৩০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। জমি দখলমুক্ত এবং হয়রানি থেকে মুক্ত হতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।এছাড়াও বিগত ০২-০৯-২০২৬ ইং তারিখে মামলার হাজিরা দিতে গেলে আদালত চত্ত্বরে মোসাররফ হোসেন তার লোকজন নিয়ে আমাকে আটক করে ৩০ লক্ষ টাকা দাবী করেন।তিনি জানান, ৩৪নং জেএল লতাচাপলী মৌজার এসএ খতিয়ানের অংশ থেকে ০.৩৬৮০ একর জমির মালিক ছিলেন সান ভিউ প্রপার্টিজ লিঃ এর পক্ষে মোশাররফ সহ অপর পাঁচজন। উক্ত জমি মোশাররফ হোসেন এক কোটি আঠাশ লক্ষ আশি হাজার টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বিক্রয় করেছেন। কিন্তু উক্ত টাকা থেকে বাকি পাঁচজনের অংশ তিনি বুঝিয়ে না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে সান ভিউ প্রপার্টিজ লিঃ এর চেয়ারম্যান জনাব মোঃ জহিরুল হক তিনি এ বিষয় অবগত নয়। বিএস ৭৭৭নং খতিয়ানের (রাখাইন মার্কেটের পূর্ব পার্শ্বে অবস্থিত) জমি আবেদ আলীকে শেখ মজিবর রহমানের সাথে থাকা ছবির সাইন বোর্ড দেখিয়ে প্রায় ০২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।এমন অবস্থায় মামলাবাজ মোসাররফ হোসেন এর দখলকৃত জমি দখলমুক্ত সহ অযথা হয়রানি থেকে রেহাই পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর আকন।এবিষয়ে সানভিউ প্রপার্টিজের মালিক মোশাররফ হোসেন এর সাথে যোগাযোগের চেস্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।