| বয়স | গর্ভপাতের সম্ভাবনা (%) |
| ৩৫ এর নিচে | ১১-১৫% |
| ৩৫-৩৮ বৎসর | ২৫% |
| ৪০-৪৪ বৎসর | ৫১% |
| ৪৫ এর বেশি | ৯৩% |
সুতরাং ৩০-৩৫ বছরের মধ্যে সন্তান নিয়ে নেওয়া ভালো।চলুন এবারে দেখে নেওয়া যাক কী কী পরীক্ষা করা প্রয়োজন:রক্তের হিমোগ্লোবিন, APS Test বা Thrombophilia Screen Test, ডায়াবেটিস, Thyroid Test, Prolactin Test, TORCH পরীক্ষা এবং জরায়ুর USG করতে হয়; এতে PCOS বা ফাইব্রয়েড আছে কিনা তা নির্ণয় করা যায়।Genetic Testing: যেহেতু পুনরাবৃত্ত গর্ভপাতের জন্য ক্রোমোজোম দায়ী, বেশ অনেক ক্ষেত্রে মা ও বাবা দুজনের ক্রোমোজোম অ্যানালাইসিস করা হয়। সবকিছু করার পর ডাক্তারগণ চিকিৎসা দিয়ে চিকিৎসাসমূহ:পরিবর্তিত জীবনযাপন: ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধূমপান বন্ধ করতে হবে। উভয়ের কফি ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমাতে হবে। শরীরচর্চা করতে হবে। ঠিকমতো ঘুমাতে হবে এবং দুশ্চিন্তা পরিহার করতে হবে।থ্রম্বোফিলিক অথবা অ্যান্টিফসফোলিপিড সিনড্রোমের ক্ষেত্রে: রোগীকে হেপারিন ইনজেকশন দিতে হতে পারে। অনেক সময় অ্যাসপিরিন (Aspirin) দেওয়া হয়ে থাকে। অ্যাসপিরিন ও হেপারিন রক্ত জমাট বাঁধাকে প্রতিহিত করে পুনরাবৃত্ত গর্ভপাতকে অনেকাংশে ঠেকাতে পারে।অন্যান্য: থাইরয়েড, প্রোলেক্টিন ও ডায়াবেটিস থাকলে সেগুলোর যথাযথ চিকিৎসা করে তবেই সন্তান গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।শল্য চিকিৎসা: অনেক সময় জরায়ুর ফাইব্রয়েড ও পর্দা বা সেপ্টাম অপারেশন করে সরিয়ে ফেলতে হতে পারে। যে সকল নারীদের জরায়ুর মুখ (Cervix) ঢিলা থাকে, তাদেরকে সুতা দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় (Cerclage)। যা পরবর্তীতে প্রসবের আগে কেটে দেওয়া হয়।হরমোন চিকিৎসা: সন্তান ধারণের পরেও হেপারিন/অ্যাসপিরিন বা হরমোনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হতে পারে। প্রোজেস্টেরন হরমোন গর্ভকালীন অবস্থায় জরায়ুকে শান্ত রাখে এবং সংকোচন করতে দেয় না, ফলে পুনরাবৃত্ত গর্ভপাত রোধ করা সম্ভব হয়।যেসব ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্ত গর্ভপাতের সঠিক কোনো কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না, সেক্ষেত্রে কোনো বিশেষ চিকিৎসা দেওয়া যায় না। তাই বলে যে আবার গর্ভপাত হবে এমনটিও নয়। ভবিষ্যতে গর্ভধারণ সফল হতে পারে। তাই সেক্ষেত্রে দম্পতিদের ডাক্তারের সাথে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখার উপদেশ দেওয়া হয়ে থাকে।যে সকল দম্পতির বারবার গর্ভপাত হয়, তাদের অনেক রকম মানসিক যন্ত্রণা হয়ে থাকে। সেজন্য তাদেরকে অত্যন্ত যত্ন, ভালোবাসা ও আদর দিয়ে আগলে রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক ডাক্তারের সাহায্যও নিতে হতে পারে। তবে বারবার সন্তান নষ্ট হয়েছে বলে আবার এমনটি হবে তা নয়; এবং এই পুনরাবৃত্ত গর্ভপাতের জন্য স্ত্রী বা স্বামী কারও একক দোষ নেই। এটি কোনো জিন-ভূতের ব্যাপারও নয়। সঠিক কারণ নির্ধারণ করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে আপনার কোল জুড়ে একটি সুন্দর ফুটফুটে সন্তান আসতে পারবে।







