বগুরা প্রতিনিধি::বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাসের চাপায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে।শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে সদর উপজেলার এরুলিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে কাজের সন্ধানে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর যাত্রীবাহী বাসটি উঠে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ২৫ জন। তাঁদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাজমুল (৪৫) নামে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর বাড়ি জয়পুরহাট জেলায়।এর আগে দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও ছয়জন শ্রমিক মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তাঁরা হলেন বগুড়া সদর উপজেলার ফাঁপোড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল এবং নূর আলম। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে পুলিশ।জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শ্রমিকরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে তাঁদের সংগ্রহ করেন। শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় বাসটি দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের চাপা দিয়ে উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান আরও তিনজন। এরপর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন। তাঁদের উদ্ধার করে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।স্থানীয়রা জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়িটি শ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। নিহত ও আহত ব্যক্তিরা অত্যন্ত দরিদ্র দিনমজুর। তাঁরা বিভিন্ন স্কুলের বারান্দায় রাত কাটিয়ে ভোরে এই হাটে এসেছিলেন।এদিকে, দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা মহাসড়ক অবরোধ করেন। এই স্থানে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে তাঁরা স্থায়ী গতিরোধক নির্মাণের দাবি জানান।বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, বাসচাপায় ঘটনাস্থলে তিনজন এবং হাসপাতালে চারজন মারা গেছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক সচল করার চেষ্টা করছে।